চিকিৎসাগত পর্যালোচনা: ডা. অর্ণব কুণ্ডু, MBBS, DGO, DNB (Obstetrics & Gynaecology) — বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ, আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট, রিনিউ হেলথকেয়ার, কলকাতা
সর্বশেষ আপডেট: আগস্ট ২০২৬
সংক্ষেপে: এক বছর চেষ্টার পরেও সন্তান না এলে (স্ত্রীর বয়স ৩৫-এর বেশি হলে ছয় মাস) স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই পরীক্ষা করানো উচিত — একসঙ্গে, আলাদা আলাদা নয়। প্রথম ধাপের পরীক্ষাগুলি সহজ, ব্যথাহীন এবং তুলনামূলকভাবে সস্তা। সবচেয়ে জরুরি কথা: স্বামীর সিমেন টেস্ট সবার আগে, কারণ প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষের দিকেও কারণ থাকে।
প্রথমেই একটা ভুল ভাঙা দরকার
আমাদের সমাজে বাচ্চা না হলে প্রথমেই স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে পাঠানো হয়। মাসের পর মাস তাঁর পরীক্ষা চলে, ওষুধ চলে — অথচ স্বামীর একটিও পরীক্ষা হয় না।
এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভুল পথ। গবেষণা বলছে, সন্তান না হওয়ার প্রায় ৫০% ক্ষেত্রে পুরুষের দিকেও কারণ জড়িত থাকে। আর পুরুষের মূল পরীক্ষাটি — সিমেন অ্যানালাইসিস — পুরো ওয়ার্কআপের মধ্যে সবচেয়ে সহজ ও সবচেয়ে কম খরচের।
তাই নিয়ম একটাই: পরীক্ষা শুরু হবে দুজনের, একই দিনে।
স্বামীর পরীক্ষা: প্রথম ধাপ
| পরীক্ষা | কী জানা যায় |
|---|---|
| সিমেন অ্যানালাইসিস | শুক্রাণুর সংখ্যা, চলাচল (মোটিলিটি), গঠন |
| রিপিট সিমেন টেস্ট | প্রথম রিপোর্ট অস্বাভাবিক হলে ২-৩ সপ্তাহ পর আবার |
দুটি বিষয় মনে রাখবেন। প্রথমত, টেস্টের আগে ২ থেকে ৭ দিনের সংযম দরকার — ল্যাব যা বলবে, ঠিক তা-ই মানুন। দ্বিতীয়ত, একটি খারাপ রিপোর্ট মানেই চূড়ান্ত রায় নয় — শুক্রাণুর মান স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করে, তাই অস্বাভাবিক রিপোর্ট সবসময় আবার করিয়ে নিশ্চিত হতে হয়।
রিপোর্ট অস্বাভাবিক হলে পরের ধাপে হরমোন পরীক্ষা (FSH, LH, টেস্টোস্টেরন, প্রোল্যাকটিন, TSH) এবং প্রয়োজনে স্ক্রোটাল আলট্রাসাউন্ড হতে পারে।
স্ত্রীর পরীক্ষা: ধাপে ধাপে
প্রথম ধাপ — রক্ত পরীক্ষা ও আলট্রাসাউন্ড
- AMH (এএমএইচ) — ডিম্বাশয়ে ডিমের ভাণ্ডার কেমন, তার আন্দাজ দেয়
- TSH (থাইরয়েড) — থাইরয়েডের সমস্যা গর্ভধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলে
- প্রোল্যাকটিন — বেশি থাকলে ডিম্বস্ফোটন (ওভুলেশন) বন্ধ হতে পারে
- ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসাউন্ড — জরায়ু, ডিম্বাশয় ও অ্যান্ট্রাল ফলিকল কাউন্ট দেখা হয়
এই সবগুলিই এক-দুই দিনে হয়ে যায়। কোনওটিতেই ভর্তি হতে হয় না।
দ্বিতীয় ধাপ — টিউব পরীক্ষা
ফ্যালোপিয়ান টিউব খোলা আছে কি না জানতে HSG (এইচএসজি) বা সোনোসালপিঙ্গোগ্রাফি করা হয়। এ নিয়ে অনেকের ভয় থাকে — সে বিষয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে। মূল কথা: পরীক্ষাটি কয়েক মিনিটের, এবং টিউব বন্ধ থাকলে চিকিৎসার পুরো পরিকল্পনাই বদলে যায় — তাই এটি বাদ দেওয়া যায় না।
প্রয়োজনভেদে — বাড়তি পরীক্ষা
ল্যাপারোস্কোপি, হিস্টেরোস্কোপি বা জেনেটিক পরীক্ষা সবার দরকার হয় না। ডাক্তার আপনার রিপোর্ট দেখে নির্দিষ্ট কারণ থাকলে তবেই এগুলির পরামর্শ দেবেন। কেউ যদি প্রথম দিনেই একগুচ্ছ দামি পরীক্ষার তালিকা ধরিয়ে দেন, জিজ্ঞেস করুন — “এই পরীক্ষাটা আমার ক্ষেত্রে কেন দরকার?” ভালো ডাক্তার এর স্পষ্ট উত্তর দেবেন।
খরচ কেমন?
সঠিক খরচ ল্যাব ও শহরভেদে আলাদা। রিনিউ হেলথকেয়ার-এর বর্তমান পরীক্ষার তালিকা ও খরচ জানতে ক্লিনিকে যোগাযোগ করুন।
তবে একটি তুলনা মনে রাখুন: প্রথম ধাপের সব পরীক্ষা মিলিয়ে যা খরচ, তা মাসের পর মাস ফার্মেসি থেকে টনিক-ক্যাপসুল কেনার চেয়ে কম — এবং টনিকে রোগ নির্ণয় হয় না, পরীক্ষায় হয়।
কখন আর অপেক্ষা নয়?
নিচের যে-কোনও একটি হলে এক বছর অপেক্ষা না করে এখনই পরীক্ষা করান:
- স্ত্রীর বয়স ৩৫-এর বেশি এবং ৬ মাস চেষ্টা হয়ে গেছে
- মাসিক খুব অনিয়মিত বা বন্ধ
- আগে গর্ভপাত হয়েছে একাধিকবার
- পেটে বা তলপেটে অস্ত্রোপচারের ইতিহাস
- স্বামীর মাম্পস, হার্নিয়া অপারেশন বা অণ্ডকোষে আঘাতের ইতিহাস
- জিম-সাপ্লিমেন্ট বা টেস্টোস্টেরন জাতীয় কিছু চলছে বা চলেছে
সচরাচর প্রশ্ন
সব পরীক্ষা কি একদিনে হয়?
প্রথম ধাপের প্রায় সবই এক-দুই দিনে সম্ভব। কিছু রক্ত পরীক্ষা মাসিকের নির্দিষ্ট দিনে দিতে হয়, আর HSG সাধারণত মাসিক শেষ হওয়ার পরের সপ্তাহে করা হয় — তাই পুরো ওয়ার্কআপ এক মাসিক-চক্রের মধ্যে গুছিয়ে ফেলা যায়।
পরীক্ষায় কি ব্যথা লাগে?
রক্ত পরীক্ষা ও আলট্রাসাউন্ডে ব্যথা নেই। সিমেন টেস্টে কোনও কষ্টই নেই। HSG-তে কিছুক্ষণ মাসিকের মতো ব্যথা হতে পারে — এ নিয়ে বিস্তারিত আমাদের আলাদা লেখায়।
স্বামী পরীক্ষা করাতে লজ্জা পাচ্ছেন। কী করব?
তাঁকে জানান — এটি একটি সাধারণ ল্যাব টেস্ট, একটি আলাদা ঘরে, কয়েক মিনিটের ব্যাপার। এবং এটিই পুরো চিকিৎসার সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা। স্ত্রী মাসের পর মাস পরীক্ষা দেবেন আর স্বামী একটি টেস্টও দেবেন না — এটা ন্যায্যও নয়, বিজ্ঞানসম্মতও নয়।
রিপোর্ট স্বাভাবিক, তবু বাচ্চা হচ্ছে না — এমন হয়?
হয়। একে বলে “আনএক্সপ্লেইনড ইনফার্টিলিটি”। তখনও চিকিৎসার কার্যকর রাস্তা আছে — রিপোর্ট স্বাভাবিক মানে দরজা বন্ধ নয়।
শেষ কথা
বাচ্চা না হলে দোষারোপ নয়, পরীক্ষা। দুজনের, একসঙ্গে, শুরুতেই। প্রথম ধাপের পরীক্ষাগুলি সহজ ও সাশ্রয়ী, এবং বেশিরভাগ দম্পতির ক্ষেত্রে এখান থেকেই কারণ ধরা পড়ে — আর কারণ জানা গেলে চিকিৎসাও হয় লক্ষ্যভেদী। কার কাছে যাবেন, তা জানতে দেখুন এই গাইডটি।
আজই সম্পূর্ণ পরীক্ষা করান
ডা. অর্ণব কুণ্ডু, রিনিউ হেলথকেয়ার, কলকাতা — স্বামী-স্ত্রী দুজনের সম্পূর্ণ ফার্টিলিটি ওয়ার্কআপ, বাংলায় পরামর্শ, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়া।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট: +91 6292 269 060 | renewhealthcare.in | 18C, Mandeville Gardens, Ballygunge, Gariahat, Kolkata 700019
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য; ব্যক্তিগত চিকিৎসা-পরামর্শের বিকল্প নয়।

