Fertility

দ্বিতীয় বাচ্চা না হওয়ার কারণ কী? প্রথমবার সহজে হলো, এবার কেন হচ্ছে না

দ্বিতীয় বাচ্চা না হওয়ার কারণ কী? প্রথমবার সহজে হলো, এবার কেন হচ্ছে না

চিকিৎসাগত পর্যালোচনা: ডা. অর্ণব কুণ্ডু, MBBS, DGO, DNB (Obstetrics & Gynaecology) — বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ, আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট, রিনিউ হেলথকেয়ার, কলকাতা

সর্বশেষ আপডেট: আগস্ট ২০২৬

সংক্ষেপে: একবার মা-বাবা হওয়ার পর আবার সন্তান না আসাকে বলে সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি — এবং এটি অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ। প্রধান কারণগুলি: দুই সন্তানের মাঝে বয়স বেড়ে যাওয়া, সিজারের পরের সমস্যা, ডিঅ্যান্ডসি-পরবর্তী জটিলতা, থাইরয়েড-ওজনের পরিবর্তন, আর — যেটা কেউ ভাবে না — স্বামীর শুক্রাণুর মান কমে যাওয়া। নিয়ম আগের মতোই: এক বছর (বয়স ৩৫+ হলে ছয় মাস) পেরোলে দুজনের পরীক্ষা।

“প্রথমবার তো এমনিই হয়ে গেল!”

এই বাক্যটাই সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির সবচেয়ে বড় ফাঁদ। প্রথম সন্তান সহজে এসেছিল বলে ধরে নেওয়া হয় — যন্ত্রপাতি সব ঠিকই আছে, এবারও হবে, শুধু সময়ের ব্যাপার। সেই ভরসায় বছর ঘুরে যায়, তারপর আরও এক বছর।

কিন্তু শরীর তো সেই আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। প্রথম সন্তানের পর পেরিয়েছে হয়তো চার-পাঁচ বছর — আর উর্বরতার হিসাবে চার-পাঁচ বছর অনেকটা পথ।

স্ত্রীর দিকের সম্ভাব্য কারণ

১. বয়স — সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে উপেক্ষিত কারণ। প্রথম সন্তানের সময় বয়স ছিল হয়তো ২৮, এখন ৩৪। এই সময়ে ডিমের সংখ্যা ও মান দুটোই কমেছে — এটি স্বাভাবিক জীববিজ্ঞান, কিন্তু এর মানে হলো একই দম্পতির পক্ষেও দ্বিতীয়বার সময় বেশি লাগতে পারে।

২. সিজারের পরের সমস্যা। সিজারিয়ান অপারেশনের দাগে কখনও কখনও ছোট গহ্বর (নিশ বা আইসথমোসিল) তৈরি হয়, যা পরের গর্ভধারণে বাধা দিতে পারে। পেটের অস্ত্রোপচারের পর আঠালো বন্ধন (অ্যাডহেশন) হয়ে টিউব জড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব।

৩. ডিঅ্যান্ডসি বা গর্ভপাত-পরবর্তী জটিলতা। আগের প্রসব বা গর্ভপাতের পর ডিঅ্যান্ডসি হয়ে থাকলে বিরল ক্ষেত্রে জরায়ুর ভেতরে আঠালো দাগ (অ্যাশারম্যান সিনড্রোম) তৈরি হয় — লক্ষণ: আগের চেয়ে অনেক কম মাসিক। এটি চিকিৎসাযোগ্য, কিন্তু খুঁজলে তবেই ধরা পড়ে।

৪. প্রসব-পরবর্তী সংক্রমণ থেকে টিউবের ক্ষতি — আগেরবার স্বাভাবিক থাকলেও এখন টিউব বন্ধ থাকতে পারে।

৫. থাইরয়েড, ওজন ও নতুন অসুখ। প্রসবের পর থাইরয়েডের গোলমাল, উল্লেখযোগ্য ওজনবৃদ্ধি, নতুন ডায়াবেটিস, কিংবা বয়সের সঙ্গে মাথাচাড়া দেওয়া এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফাইব্রয়েড — সবই এই ক-বছরে নতুন করে যুক্ত হতে পারে।

স্বামীর দিকেও নতুন করে দেখা দরকার

এইটি সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে। “ওর তো প্রমাণই আছে — প্রথম বাচ্চা!” কিন্তু শুক্রাণুর মান স্থির জিনিস নয়। কয়েক বছরে তা বদলাতে পারে —

  • বয়স ও ওজনবৃদ্ধি
  • নতুন ডায়াবেটিস বা রক্তচাপের ওষুধ
  • ধূমপান, গুটখা-খৈনি, মদ্যপান বেড়ে যাওয়া
  • জিমের সাপ্লিমেন্ট বা টেস্টোস্টেরন জাতীয় কিছু শুরু করা — এটি শুক্রাণু উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে
  • জ্বর, মাম্পস, ভ্যারিকোসিল বা অণ্ডকোষের অন্য সমস্যা

তাই দ্বিতীয়বারের ওয়ার্কআপেও সিমেন টেস্ট আবার করাতে হবে — আগেরবারের সাফল্য এবারের সার্টিফিকেট নয়।

আর যে কারণটা কেউ লিখে খোঁজে না

সময়ও একটা কারণ। প্রথম সন্তান সামলে ক্লান্ত দম্পতির জীবনে সহবাসের নিয়মিততাই কমে যায় — মাসে দু-একবারে সম্ভাবনাও কমে। চেষ্টার মাসগুলিতে দু-তিন দিন অন্তর নিয়মিত মিলন — এই সাধারণ হিসাবটাও অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেক সমাধান।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

নিয়ম প্রথমবারের মতোই — কিন্তু এবার বয়সটা মাথায় রেখে:

  • স্ত্রীর বয়স ৩৫-এর নিচে: এক বছর চেষ্টার পর
  • স্ত্রীর বয়স ৩৫+: ছয় মাসের মধ্যেই
  • মাসিক অনিয়মিত, সিজার-পরবর্তী সমস্যার সন্দেহ, বা আগের প্রসবে জটিলতা থাকলে: এখনই

পরীক্ষাগুলিও প্রথমবারের মতোই — দুজনের। আগের রিপোর্ট যত পুরনোই হোক, সঙ্গে নিয়ে যান; তুলনা করার সুযোগটা মূল্যবান। কোন কোন পরীক্ষা লাগে, তার সম্পূর্ণ তালিকা আছে আমাদের এই লেখায়, আর কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন তা জানতে দেখুন এই গাইডটি।

একটি কথা মনের কষ্ট নিয়ে

সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির কষ্টের ধরনটাই আলাদা। চারপাশ বলে — “একটা তো আছে, আবার কীসের চিন্তা!” ঘরে ছোট্ট সন্তান “ভাই-বোন কবে আসবে” জিজ্ঞেস করে, আর ভেতরে ভেতরে অপরাধবোধ জমে — একবার পেরেছি, এবার পারছি না কেন?

জেনে রাখুন: এই কষ্ট বৈধ, এই সমস্যাটা সত্যি, এবং “একটা আছে” বলে চিকিৎসা চাওয়া মোটেই বাড়াবাড়ি নয়। প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে মনের কথাটাও খুলে বলুন।

সচরাচর প্রশ্ন

প্রথম সন্তান স্বাভাবিকভাবে হয়েছিল — তাও কি আইভিএফ লাগতে পারে?

কারণের ওপর নির্ভর করে। অনেকের ক্ষেত্রে ওষুধ বা ছোট চিকিৎসাই যথেষ্ট; কারও ক্ষেত্রে IUI বা IVF দরকার হয়। আগে কারণ, তারপর চিকিৎসা — এই ক্রমটাই আসল।

সিজারের পর কত দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় সন্তান নেওয়া ভালো?

সাধারণভাবে অন্তত এক-দেড় বছরের ব্যবধান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে আপনার অপারেশনের বিবরণ অনুযায়ী সঠিক পরামর্শ দেবেন আপনার ডাক্তার।

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কি গর্ভধারণ আটকে থাকে?

পুরোদমে স্তন্যপান চললে ডিম্বস্ফোটন বন্ধ থাকতে পারে, বিশেষত মাসিক না ফিরলে। তবে এটি নির্ভরযোগ্য নিয়মও নয় — মাসিক ফেরার আগেও গর্ভধারণ সম্ভব। দ্বিতীয় সন্তানের পরিকল্পনা থাকলে বিষয়টি ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করুন।

দ্বিতীয়বারও কি পুরো পরীক্ষা লাগবে?

হ্যাঁ, দুজনেরই — কারণ গত ক-বছরে দুজনের শরীরই বদলেছে। তবে আগের রিপোর্ট থাকায় তুলনা করা যায়, অনেক সময় ওয়ার্কআপ ছোটও হয়।

শেষ কথা

প্রথমবার সহজে হয়েছিল — এই ভরসাটাই দ্বিতীয়বারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এতে হারায় মূল্যবান সময়। শরীর বদলেছে, বয়স বেড়েছে — তাই নিয়মও সেই পুরনোটাই: নির্দিষ্ট সময় পেরোলে দুজনের পরীক্ষা, কারণ নির্ণয়, তারপর লক্ষ্যভেদী চিকিৎসা। ভালো খবরটা হলো — কারণ ধরা পড়লে সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির চিকিৎসার ফলাফল সাধারণত ভালোই হয়।

দ্বিতীয় সন্তানের পরিকল্পনায় দেরি নয়

ডা. অর্ণব কুণ্ডু, রিনিউ হেলথকেয়ার, কলকাতা — সিজার-পরবর্তী মূল্যায়নসহ দুজনের সম্পূর্ণ পরীক্ষা, বাংলায় পরামর্শ।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট: +91 6292 269 060 | renewhealthcare.in | 18C, Mandeville Gardens, Ballygunge, Gariahat, Kolkata 700019

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য; ব্যক্তিগত চিকিৎসা-পরামর্শের বিকল্প নয়।

← Back to all blogs
Need guidance?

Book Your Appointment

Speak with Renew Healthcare for the right next step in your journey.