Fertility

বারবার গর্ভপাত হলে কোন পরীক্ষা দরকার, আর কোনটা দরকার নেই?

বারবার গর্ভপাত হলে কোন পরীক্ষা দরকার, আর কোনটা দরকার নেই?

চিকিৎসাগত পর্যালোচনার জন্য: Dr. Arnab Kundu, Renew Healthcare।


সংক্ষেপে: বারবার গর্ভপাত হলে কোন পরীক্ষাগুলো দরকার?

ESHRE নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুই বা তার বেশি গর্ভধারণ হারালে তাকে বারবার গর্ভধারণ হারানো বা Recurrent Pregnancy Loss (RPL) বলা হয়। এক্টোপিক ও মোলার গর্ভধারণ এই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।

এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়নের মধ্যে রয়েছে:

  • অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা।

  • থাইরয়েড পরীক্ষা—TSH ও TPO অ্যান্টিবডি।

  • জরায়ুর গঠন ও প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসাউন্ড মূল্যায়ন।

  • দুজনের জীবনযাপন, যেমন ধূমপান, মদ্যপান, ওজন ও ব্যায়ামের অভ্যাস মূল্যায়ন।

অন্যদিকে, HLA টাইপিং, সাইটোকাইন পরীক্ষা এবং বংশগত থ্রম্বোফিলিয়া পরীক্ষা সবার জন্য নিয়মিতভাবে সুপারিশ করা হয় না।

সব পরীক্ষা করানোই ভালো চিকিৎসা নয়। যে পরীক্ষার ফল আপনার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে, সেটিকেই অগ্রাধিকার দিন।

বারবার গর্ভপাত বলতে কী বোঝায়?

ESHRE নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুই বা তার বেশি গর্ভধারণ হারানোকে বারবার গর্ভধারণ হারানো বলা হয়। এই সংজ্ঞায় এক্টোপিক ও মোলার গর্ভধারণ অন্তর্ভুক্ত নয়।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই সমস্যা প্রায় ১–২ শতাংশ দম্পতিকে প্রভাবিত করে।

গর্ভপাত তুলনামূলকভাবে সাধারণ ঘটনা। একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্বীকৃত গর্ভধারণের প্রায় ১৫ শতাংশ গর্ভপাতের মাধ্যমে শেষ হয়। তাই গর্ভপাত হওয়া মানেই কারও দোষ বা অবহেলা ছিল—এমন নয়।

অনেকে দোয়া, মানত বা ঘরোয়া প্রার্থনায় ভরসা রাখেন। ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে সম্মান করেই চিকিৎসা ও পরীক্ষা এগিয়ে নেওয়া যায়। বিশ্বাস এবং চিকিৎসা একসঙ্গে চলতে পারে; একটি অন্যটির বিকল্প নয়।

বারবার গর্ভপাত হলে কোন পরীক্ষাগুলো নির্দেশিত?

১. অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা

বারবার গর্ভপাতের মূল্যায়নে অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

এর মধ্যে রয়েছে:

  • Lupus anticoagulant

  • Anticardiolipin antibody

ESHRE-এর ২০১৮ নির্দেশিকায় দুইবার গর্ভপাতের পর এই পরীক্ষাগুলোর সুপারিশ করা হয়েছে। Anti-beta-2-glycoprotein I পরীক্ষাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোমের পরীক্ষার বিষয়টি বংশগত থ্রম্বোফিলিয়া পরীক্ষার থেকে আলাদা। দুটি একই বিষয় নয়।

পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে এবং তিন বা তার বেশি গর্ভপাতের ইতিহাস থাকলে, চিকিৎসক নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম মাত্রার অ্যাসপিরিন ও হেপারিনের মতো চিকিৎসার বিকল্প আলোচনা করতে পারেন। এগুলো নিজে থেকে শুরু করবেন না।

২. থাইরয়েড পরীক্ষা: TSH ও TPO অ্যান্টিবডি

বারবার গর্ভপাতের মূল্যায়নে থাইরয়েড পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসক আপনার ইতিহাস অনুযায়ী TSH ও TPO অ্যান্টিবডি পরীক্ষা বিবেচনা করতে পারেন।

তবে থাইরয়েড অ্যান্টিবডি পজিটিভ হলেই, থাইরয়েডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় লেভোথাইরক্সিন নেওয়া উচিত—এমন সিদ্ধান্ত এই নির্দেশিকা সমর্থন করে না।

কোনো ওষুধ শুরু করার আগে আপনার রিপোর্টের অর্থ এবং চিকিৎসার সম্ভাব্য উপকার চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

৩. জরায়ুর গঠন পরীক্ষা

বারবার গর্ভপাতের মূল্যায়নে জরায়ুর গঠন দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

নির্দেশিকায় জরায়ুর গঠন ও প্রয়োজন অনুযায়ী 2D আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে অ্যাডিনোমায়োসিস বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জরায়ুর গঠনে কোনো সমস্যা সন্দেহ হলে, স্যালাইন বা সনোহিস্টেরোগ্রাফি জরায়ুর অস্বাভাবিক গঠন মূল্যায়নে HSG-এর তুলনায় বেশি নির্ভুল হতে পারে।

কোন পরীক্ষা আপনার ক্ষেত্রে উপযুক্ত, তা আপনার ইতিহাস ও আগের রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

৪. দুজনের জীবনযাপন মূল্যায়ন

বারবার গর্ভপাতের মূল্যায়নে শুধু নারীর রিপোর্ট নয়, পুরুষ সঙ্গীর জীবনযাপনও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ESHRE নির্দেশিকায় পুরুষ সঙ্গীর জীবনযাপন মূল্যায়নের জন্য শক্তিশালী সুপারিশ রয়েছে।

আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে থাকতে পারে:

  • ধূমপান।

  • মদ্যপান।

  • শরীরের ওজন।

  • ব্যায়াম ও শারীরিক সক্রিয়তা।

অতিরিক্ত কম বা বেশি ওজন এবং পুরুষ সঙ্গীর বেশি বয়সও গর্ভপাতের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রভাব কতটা, তা এই নিবন্ধে সংখ্যায় নির্ধারণ করা হচ্ছে না।

কোন পরীক্ষাগুলো সবার জন্য নিয়মিতভাবে দরকার নেই?

বারবার গর্ভপাতের পর অনেক সময় একসঙ্গে অনেক পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়। কিন্তু সব পরীক্ষার ফল চিকিৎসার সিদ্ধান্ত বদলায় না।

পরীক্ষানির্দেশিকার অবস্থান
বংশগত থ্রম্বোফিলিয়া পরীক্ষাঅতিরিক্ত ঝুঁকি না থাকলে বা গবেষণার অংশ না হলে নিয়মিত সুপারিশ নয়
HLA টাইপিংনিয়মিতভাবে সুপারিশ করা হয় না
Anti-HY অ্যান্টিবডি পরীক্ষানিয়মিতভাবে সুপারিশ করা হয় না
সাইটোকাইন পরীক্ষানিয়মিতভাবে সুপারিশ করা হয় না
দম্পতির ক্রোমোজোম পরীক্ষা বা ক্যারিওটাইপসবার জন্য নিয়মিত নয়; ব্যক্তিগত মূল্যায়নে বিবেচনা করা যেতে পারে
TORCH সংক্রমণ প্যানেলপর্যালোচিত ESHRE নির্দেশিকায় নিয়মিত পরীক্ষার তালিকায় উল্লেখ নেই

TORCH সম্পর্কে নির্দেশিকার নীরবতাকে সব পরিস্থিতিতে পরীক্ষাটি নিষিদ্ধ—এমন অর্থে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ কোনো কারণ থাকলে চিকিৎসক ব্যাখ্যা করতে পারবেন কেন পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

একইভাবে, আপনার ব্যক্তিগত ইতিহাসে অতিরিক্ত ঝুঁকি থাকলে কোনো পরীক্ষা বিবেচনা করা হতে পারে।

বারবার গর্ভপাতের চিকিৎসা: কোনটির প্রমাণ কতটা শক্ত?

সব চিকিৎসার প্রমাণ সমান নয়। কোনো চিকিৎসা গর্ভধারণের হার বাড়াতে পারে বলে মনে হলেও, সেটি জীবিত সন্তান জন্মের হার বাড়ায় কি না—সেটি আলাদা প্রশ্ন।

অ্যাসপিরিন ও হেপারিন

অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোমের নির্দিষ্ট পরীক্ষাগত মানদণ্ড পূরণ হলে এবং তিন বা তার বেশি গর্ভপাতের ইতিহাস থাকলে কম মাত্রার অ্যাসপিরিন ও প্রতিরোধমূলক হেপারিনের চিকিৎসা বিবেচনা করা যেতে পারে।

নির্দেশিকায় এই সুপারিশের প্রমাণের মান নিম্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আপনার ক্ষেত্রে চিকিৎসা উপযুক্ত কি না, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

প্রোজেস্টেরন

অজানা কারণে বারবার গর্ভপাতের ক্ষেত্রে যোনিপথে প্রোজেস্টেরন ব্যবহার করলে সাধারণভাবে জীবিত সন্তান জন্মের হার বাড়ে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে তিন বা তার বেশি গর্ভপাতের ইতিহাস এবং পরবর্তী গর্ভধারণে যোনিপথে রক্তপাত থাকলে প্রোজেস্টেরন উপকারী হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নির্দেশিকায় প্রমাণের মান মাঝারি বলা হয়েছে।

প্রোজেস্টেরন নেওয়ার আগে সম্ভাব্য উপকার, সীমাবদ্ধতা এবং কতদিন ব্যবহার করতে হবে তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

IVIG

IVIG নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে সুপারিশ করা হয় না।

চার বা তার বেশি অজানা কারণে গর্ভপাতের কিছু ক্ষেত্রে পুনঃপুন উচ্চমাত্রার IVIG নিয়ে সীমিত প্রমাণ রয়েছে। এই ফলাফলকে সবার জন্য কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

থাইরয়েড স্বাভাবিক থাকলে লেভোথাইরক্সিন

শুধু থাইরয়েড অ্যান্টিবডি পজিটিভ থাকার কারণে, থাইরয়েডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় লেভোথাইরক্সিন দেওয়ার পক্ষে নির্দেশিকা সমর্থন দেয় না।

PICSI দিয়ে শুক্রাণু বাছাই

বারবার গর্ভপাতের চিকিৎসায় PICSI দিয়ে শুক্রাণু বাছাইয়ের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই বলে উৎস নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোনো অতিরিক্ত চিকিৎসা প্রস্তাব করা হলে তার উদ্দেশ্য এবং জীবিত সন্তান জন্মের হার বাড়ানোর প্রমাণ আছে কি না, তা জেনে নিন।

কখন পরীক্ষা শুরু করবেন এবং কখন পুনর্বিবেচনা করবেন?

দুইবার গর্ভপাতের পরই চিকিৎসকের সঙ্গে RPL মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করা যায়।

এরপর আপনার ইতিহাস ও পরীক্ষার ফল অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা উচিত।

কয়েকটি বিষয় মনে রাখুন:

  • একই পরীক্ষা বারবার করাবেন না, যদি না নতুন কোনো কারণ দেখা দেয়।

  • কোনো ওষুধ শুরুর আগে কতদিন নিতে হবে এবং কখন বন্ধ করতে হবে, তা চিকিৎসকের সঙ্গে ঠিক করুন।

  • নিজে থেকে নতুন ইমিউন প্যানেল বা অতিরিক্ত ওষুধ শুরু করবেন না।

  • চিকিৎসা চলাকালীন কোন পর্যায়ে ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, তা আগেই জেনে নিন।

খরচ ও সময়: কী জানা দরকার?

এই উৎস নথিতে নির্দিষ্ট পরীক্ষার মূল্য দেওয়া নেই। তাই কোনো নির্দিষ্ট খরচ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

কিছু রক্ত পরীক্ষার ফল পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে, আর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস লাগতে পারে। প্রকৃত সময় পরীক্ষাগার এবং চিকিৎসা পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।

পরীক্ষা করানোর আগে ক্লিনিকের কাছ থেকে খরচের তালিকা এবং সম্ভাব্য সময় জেনে নিন।

বারবার গর্ভপাত হলে চিকিৎসককে কী প্রশ্ন করবেন?

আপনার প্রথম বা পরবর্তী পরামর্শের সময় এই প্রশ্নটি করতে পারেন:

“আমার ক্ষেত্রে কোন পরীক্ষাগুলো সুপারিশ করা হচ্ছে? আর কোন পরীক্ষার ফল আমার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত বদলাবে?”

এছাড়াও জেনে নিন:

  • কোন পরীক্ষাগুলো এখনই করা দরকার?

  • কোন পরীক্ষাগুলো ব্যক্তিগত ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে?

  • কোনো ওষুধ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ কী?

  • চিকিৎসা কতদিন চলবে এবং কখন পুনর্মূল্যায়ন করা হবে?

  • কোন লক্ষণ বা নতুন রিপোর্টের ভিত্তিতে পরিকল্পনা বদলাতে হবে?

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. বারবার গর্ভপাত হলে কি সবসময় কারণ খুঁজে পাওয়া যায়?

না। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা করার পরও নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না। একে অজানা কারণে বারবার গর্ভপাত বলা হয়।

তবুও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, জীবনযাপন মূল্যায়ন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ উপকারী হতে পারে। ভবিষ্যতের গর্ভধারণের সম্ভাবনা বয়স ও আগের গর্ভধারণের ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে।

২. দুইবার গর্ভপাত হলেই কি সব পরীক্ষা করাতে হবে?

না। নির্দেশিকা কিছু পরীক্ষার নিয়মিত সুপারিশ করে, কিছু পরীক্ষা ব্যক্তিগত মূল্যায়নের জন্য রাখে এবং কিছু পরীক্ষা নিয়মিতভাবে সুপারিশ করে না।

সব পরীক্ষা একসঙ্গে করানোর প্রয়োজন নেই। আপনার বয়স, আগের গর্ভধারণের ইতিহাস ও রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসক পরীক্ষার ক্রম ঠিক করবেন।

৩. থ্রম্বোফিলিয়া পরীক্ষা কি রুটিন?

বংশগত থ্রম্বোফিলিয়া পরীক্ষা সবার জন্য নিয়মিতভাবে সুপারিশ করা হয় না, যদি না অতিরিক্ত ঝুঁকি থাকে বা পরীক্ষা গবেষণার অংশ হয়।

অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা আলাদা এবং RPL মূল্যায়নে সুপারিশ করা হয়। আপনার নিজের বা পরিবারের রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।

৪. প্রোজেস্টেরন কি বারবার গর্ভপাত আটকায়?

অজানা কারণে বারবার গর্ভপাতের ক্ষেত্রে যোনিপথে প্রোজেস্টেরন জীবিত সন্তান জন্মের হার বাড়ায়—এমন প্রমাণ নেই। তবে তিন বা তার বেশি গর্ভপাতের ইতিহাস এবং পরবর্তী গর্ভধারণে যোনিপথে রক্তপাত থাকলে এটি উপকারী হতে পারে।

আপনার পরিস্থিতিতে চিকিৎসাটি উপযুক্ত কি না, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

৫. HLA বা সাইটোকাইন পরীক্ষা করানো উচিত?

এই পরীক্ষাগুলো নিয়মিতভাবে সুপারিশ করা হয় না। এগুলোর ফল সাধারণ চিকিৎসার সিদ্ধান্ত বদলাতে সাহায্য করে—এমন প্রমাণ নেই বলে উৎস নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কোনো বিশেষ কারণে পরীক্ষা প্রস্তাব করা হলে কেন সেটি দরকার, তা জেনে নিন।

৬. জীবনযাপন কি সত্যিই প্রভাব ফেলে?

হ্যাঁ, কিছু জীবনযাপন-সম্পর্কিত বিষয় গর্ভপাতের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এর মধ্যে ধূমপান, মদ্যপান, খুব কম বা বেশি ওজন এবং পুরুষ সঙ্গীর বেশি বয়স অন্তর্ভুক্ত।

তাই মূল্যায়নে দুজনের জীবনযাপন বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

সারকথা

বারবার গর্ভপাতের মূল্যায়নে সব পরীক্ষা একসঙ্গে করানো দরকার নেই। অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি, থাইরয়েড, জরায়ুর গঠন এবং দুজনের জীবনযাপন মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, বংশগত থ্রম্বোফিলিয়া, HLA এবং সাইটোকাইন পরীক্ষা সাধারণত সবার জন্য নিয়মিতভাবে সুপারিশ করা হয় না। প্রোজেস্টেরন, IVIG বা অন্যান্য চিকিৎসার ক্ষেত্রেও প্রমাণের মান ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।

পরীক্ষা বা চিকিৎসা বেছে নেওয়ার আগে জেনে নিন, সেটির ফল আপনার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত কীভাবে বদলাবে।

Dr. Arnab Kundu-র সঙ্গে পরামর্শ করুন

বারবার গর্ভপাতের পর কোন পরীক্ষা আপনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন, কোন চিকিৎসার পক্ষে প্রমাণ রয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত—এসব বিষয়ে আলোচনা করতে Dr. Arnab Kundu-র প্রোফাইল দেখুন।

আপনার আগের গর্ভধারণের ইতিহাস, আলট্রাসাউন্ড রিপোর্ট, রক্ত পরীক্ষার ফল এবং বর্তমানে নেওয়া ওষুধের তালিকা সঙ্গে নিয়ে পরামর্শে যান।

Renew Healthcare-এর পরিষেবা সম্পর্কে জানতে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন। IVF সম্পর্কে আরও জানতে Renew Healthcare-এর IVF পরিষেবা পেজ পড়তে পারেন। প্রথমবার IVF ক্লিনিকে গেলে কী আশা করবেন, তা জানতে প্রথম IVF ক্লিনিক ভিজিটের গাইড দেখুন।

এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যোগ্য চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।


তথ্যসূত্র

  1. Bender Atik R, Christiansen OB, Elson J, et al.; ESHRE Guideline Group on RPL. ESHRE guideline: recurrent pregnancy loss: an update in 2022. Human Reproduction Open. 2023;2023(1). doi:10.1093/hropen/hoad002.

  2. Quenby S, Gallos ID, Dhillon-Smith RK, et al. Miscarriage matters: the epidemiological, physical, psychological, and economic costs of early pregnancy loss. The Lancet. 2021;397(10285):1658–1667. doi:10.1016/S0140-6736(21)00682-6.

  3. Bender Atik R, Christiansen OB, Elson J, et al.; ESHRE Guideline Group on RPL. ESHRE guideline: recurrent pregnancy loss. Human Reproduction Open. 2018;2018(2). doi:10.1093/hropen/hoy004.

প্রকাশের আগে যাচাই: উৎস নথি অনুযায়ী, চিকিৎসাগত বক্তব্যে Dr. Arnab Kundu-র অনুমোদন নিতে হবে, ESHRE নির্দেশিকার সর্বশেষ সংস্করণ পরীক্ষা করতে হবে এবং একজন বাংলা-ভাষী চিকিৎসকের মাধ্যমে মেডিক্যাল পরিভাষা ও ভাষা পর্যালোচনা করাতে হবে।

← Back to all blogs
Need guidance?

Contact the Clinic to Enquire About the Earliest Available Appointment Slot

Speak with Renew Healthcare for the right next step in your journey.