চিকিৎসাগত পর্যালোচনার জন্য: Dr. Arnab Kundu, MBBS, DGO, DNB (OBY-GYN), Infertility Specialist, IVF Expert & Gynaecologist, Renew Healthcare।
সংক্ষেপে: অ্যাডিনোমায়োসিস থাকলে কি বাচ্চা হবে না?
না, অ্যাডিনোমায়োসিস থাকলেই যে বাচ্চা হবে না, এমন নয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগ থাকলে IVF বা ICSI চক্রে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কিছুটা কম হতে পারে এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বেশি দেখা যেতে পারে।
স্ক্যানে কিছু না এলেও অ্যাডিনোমায়োসিস থাকতে পারে। মাসিকের ব্যথা কমানোর চিকিৎসা রয়েছে, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ বা জীবিত সন্তান জন্মের সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন চিকিৎসার প্রমাণ এখনও সীমিত।
আপনার ক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা বয়স, উপসর্গ, স্ক্যানের বিবরণ, আগের চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
রিপোর্টে “অ্যাডিনোমায়োসিস” লেখা থাকলে কী করবেন?
আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে “অ্যাডিনোমায়োসিস” শব্দটি দেখলে উদ্বেগ হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে আপনি যদি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেন বা IVF-এর পরিকল্পনা করেন, তাহলে রিপোর্টটির অর্থ বোঝা জরুরি।
এই রোগ কী, গর্ভধারণে এর সম্ভাব্য প্রভাব কী এবং কোন চিকিৎসার পক্ষে প্রমাণ কতটা শক্ত—সেগুলো বোঝার মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে আরও ভালোভাবে আলোচনা করতে পারবেন।
অ্যাডিনোমায়োসিস আসলে কী?
জরায়ুর ভেতরের আস্তরণকে এন্ডোমেট্রিয়াম বলা হয়। প্রতি মাসে এই আস্তরণ তৈরি হয় এবং মাসিকের সময় ঝরে যায়।
অ্যাডিনোমায়োসিসে এই আস্তরণের কোষ জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে জরায়ু কিছুটা বড় ও শক্ত হতে পারে।
যাঁদের উপসর্গ থাকে, তাঁদের মধ্যে ভারী মাসিক ও মাসিকের তীব্র ব্যথা উল্লেখযোগ্য। এশীয় বিশেষজ্ঞদের নির্দেশিকায় রোগীদের প্রায় অর্ধেক থেকে ৯৩ শতাংশের মাসিকের ব্যথার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও গবেষণাগুলোর ফলের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
অ্যাডিনোমায়োসিস কীভাবে ধরা পড়ে?
প্রথম পরীক্ষা সাধারণত ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসাউন্ড (TVUS)। আলট্রাসাউন্ডের ফল স্পষ্ট না হলে চিকিৎসক MRI করার পরামর্শ দিতে পারেন।
তবে কোনও স্ক্যানই শতভাগ নির্ভুল নয়।
২০১০ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় ২৩টি গবেষণার মোট ২,৩১২ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে অ্যাডিনোমায়োসিস শনাক্ত করার সংবেদনশীলতা ছিল:
ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসাউন্ডে প্রায় ৭২ শতাংশ।
MRI-তে প্রায় ৭৭ শতাংশ।
অর্থাৎ, গবেষণায় যাঁদের সত্যিই অ্যাডিনোমায়োসিস ছিল, তাঁদের সবার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাগুলো রোগ শনাক্ত করতে পারেনি।
তাই স্ক্যান স্বাভাবিক এলেই অ্যাডিনোমায়োসিস সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া যায় না। উপসর্গ থাকলে রিপোর্টটি আবার পর্যালোচনা করা বা MRI প্রয়োজন কি না, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
অ্যাডিনোমায়োসিস কি গর্ভধারণে সমস্যা তৈরি করতে পারে?
কিছু গবেষণায় অ্যাডিনোমায়োসিস এবং IVF-এর তুলনামূলকভাবে কম গর্ভধারণের হার ও বেশি গর্ভপাতের মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে এই ফলাফলকে প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।
২০১৪ সালের একটি বিশ্লেষণে ৯টি গবেষণার ১,৮৬৫ জন নারীর তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। IVF বা ICSI চক্রে:
অ্যাডিনোমায়োসিস থাকা নারীদের ক্লিনিক্যাল প্রেগন্যান্সির হার ছিল প্রায় ৪০.৫ শতাংশ।
অ্যাডিনোমায়োসিস না থাকা নারীদের ক্ষেত্রে হার ছিল প্রায় ৪৯.৮ শতাংশ।
সমষ্টিগত আপেক্ষিক ঝুঁকি ছিল ০.৭২; ৯৫% আস্থা-সীমা ০.৫৫–০.৯৫।
গর্ভপাতের আপেক্ষিক ঝুঁকি ছিল ২.১২; ৯৫% আস্থা-সীমা ১.২০–৩.৭৫।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশিত গবেষণাগুলোর সম্মিলিত ফল। এগুলো Renew Healthcare-এর নিজস্ব IVF সাফল্যের হার নয় এবং আপনার ব্যক্তিগত গর্ভধারণের সম্ভাবনাও নয়।
গবেষণাগুলোর মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য ছিল এবং বেশিরভাগই পর্যবেক্ষণমূলক। তাই ফলাফলকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করা জরুরি।
২০১৭ সালের আরেকটি বিশ্লেষণেও implantation, clinical pregnancy, ongoing pregnancy এবং live birth-এর হার কম এবং miscarriage-এর হার বেশি দেখা গিয়েছিল। তবে উৎস নথি অনুযায়ী, এই গবেষণার জন্য যাচাই না করা অতিরিক্ত সংখ্যাগত দাবি যোগ করা উচিত নয়।
আপনি যদি IVF-এর পরিকল্পনা করেন, তাহলে Renew Healthcare-এর IVF পরিষেবা সম্পর্কে জানুন এবং নিজের রিপোর্ট ও আগের চিকিৎসার ফল নিয়ে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করুন।
অ্যাডিনোমায়োসিসের চিকিৎসা: কোনটির প্রমাণ কতটা শক্ত?
অ্যাডিনোমায়োসিসের চিকিৎসা বেছে নেওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ব্যথা কমানোর প্রমাণ এবং গর্ভধারণ বা জীবিত সন্তান জন্মের সম্ভাবনা বাড়ানোর প্রমাণ এক নয়।
| চিকিৎসার বিকল্প | উৎস নথিতে বর্ণিত প্রমাণ |
|---|---|
| ব্যথা কমানোর ওষুধ বা হরমোনজাতীয় চিকিৎসা | মাসিকের ব্যথা কমাতে কার্যকর; প্রমাণের মান মাঝারি |
| স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ বাড়ানোর জন্য হরমোন | নির্দেশিকায় সুপারিশ করা হয়নি; প্রমাণ দুর্বল |
| তাজা ভ্রূণ স্থানান্তরের আগে GnRH-জাতীয় ওষুধ | নিয়মিত সুপারিশ করা হয়নি; প্রমাণ দুর্বল |
| হিমায়িত ভ্রূণ স্থানান্তরের আগে GnRH-জাতীয় ওষুধ | গর্ভধারণের হার বাড়াতে পারে; প্রমাণ দুর্বল |
| জরায়ু রেখে অ্যাডিনোমায়োসিস অপসারণ | ব্যথা কমাতে পারে; গর্ভধারণে সাহায্যের প্রমাণ দুর্বল |
| জরায়ু অপসারণ | ব্যথা কমাতে পারে, কিন্তু এরপর গর্ভধারণ সম্ভব নয় |
এই ফলাফলগুলোর অধিকাংশই ব্যথা বা গর্ভধারণের হারের ওপর ভিত্তি করে। জীবিত সন্তান জন্মের হার নিশ্চিতভাবে উন্নত হয়—এমন প্রমাণ এখনও খুব সীমিত।
স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের জন্য হরমোন কি সাহায্য করে?
উৎস নথিতে উদ্ধৃত নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হরমোন চিকিৎসার সুপারিশ করা হয়নি।
হরমোনজাতীয় চিকিৎসা ব্যথা কমানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু ব্যথা কমলেই গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
আপনি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে চিকিৎসককে তা স্পষ্টভাবে জানান। ব্যথার চিকিৎসা কখন বন্ধ বা পরিবর্তন করতে হবে, তা আগেই আলোচনা করা জরুরি।
IVF-এর আগে GnRH-জাতীয় ওষুধ কি দরকার?
সব ক্ষেত্রে নয়।
উৎস নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এশীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী তাজা ভ্রূণ স্থানান্তরের আগে GnRH-জাতীয় ওষুধ নিয়মিতভাবে সুপারিশ করা হয় না। অন্যদিকে, হিমায়িত ভ্রূণ স্থানান্তরের আগে এই ওষুধ গর্ভধারণের হার বাড়াতে পারে—এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে, তবে প্রমাণের মান দুর্বল।
বিভিন্ন বিশ্লেষণের ফল এক নয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনার বয়স, আগের IVF চক্রের ফল এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা দরকার।
মিথ বনাম সত্য
| প্রচলিত ধারণা | বাস্তবতা |
|---|---|
| অ্যাডিনোমায়োসিস থাকলে গর্ভধারণ অসম্ভব | ভুল। গবেষণায় অ্যাডিনোমায়োসিস থাকা নারীদের IVF চক্রেও গর্ভধারণ হয়েছে। |
| স্ক্যানে কিছু না এলে অ্যাডিনোমায়োসিস নেই | ভুল। আলট্রাসাউন্ড ও MRI—দুটিই কিছু ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে। |
| হরমোনের ওষুধ খেলেই স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে | উৎস নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্বাভাবিক গর্ভধারণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হরমোন ব্যবহারের সুপারিশ নেই। |
| অ্যাডিনোমায়োসিসের চিকিৎসা করলেই IVF সফল হবে | এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো প্রমাণ নেই। |
কখন চিকিৎসা শুরু করবেন, আর কখন চিকিৎসা বদলানোর কথা ভাববেন?
নিচের পরিস্থিতিগুলোতে চিকিৎসকের সঙ্গে মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করা উচিত:
মাসিকের ব্যথা বা রক্তস্রাব নিয়মিত কাজকর্মে বাধা দিচ্ছে।
সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও গর্ভধারণ হচ্ছে না।
বারবার গর্ভপাত হয়েছে।
IVF-এর পরিকল্পনা রয়েছে এবং রিপোর্টে অ্যাডিনোমায়োসিসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা শুরু করার আগে কিছু বিষয় পরিষ্কার করে নিন:
গর্ভধারণের ইচ্ছা থাকলে ব্যথার জন্য ব্যবহৃত হরমোন চিকিৎসা কখন বন্ধ বা পরিবর্তন করতে হবে।
কোনও ওষুধে উপকার না হলে বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে বিকল্প কী।
প্রস্তাবিত চিকিৎসার লক্ষ্য ব্যথা কমানো, গর্ভধারণের হার বাড়ানো, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য।
চিকিৎসার পক্ষে প্রমাণ কতটা শক্ত এবং কী কী অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তীব্র ব্যথার সঙ্গে জ্বর বা মাথা ঘোরা থাকলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
অ্যাডিনোমায়োসিস থাকলে কি জরায়ু অপসারণই একমাত্র সমাধান?
না। জরায়ু অপসারণ ব্যথা কমানোর একটি বিকল্প হতে পারে, কিন্তু এটি একমাত্র বিকল্প নয়। উৎস নথিতে জরায়ু রেখে অস্ত্রোপচার এবং ওষুধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে জরায়ু অপসারণের পর গর্ভধারণ সম্ভব নয়। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার ভবিষ্যৎ প্রজনন-পরিকল্পনা, উপসর্গ এবং অন্যান্য বিকল্প নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি।
চিকিৎসককে কোন প্রশ্নটি করবেন?
আপনার পরামর্শের সময় এই প্রশ্নটি করতে পারেন:
“আমার অ্যাডিনোমায়োসিস কি আলট্রাসাউন্ড নাকি MRI দিয়ে নিশ্চিত হয়েছে? আর আমার ক্ষেত্রে কোন চিকিৎসার প্রমাণ গর্ভধারণের জন্য, আর কোনটা শুধু ব্যথা কমানোর জন্য?”
এই প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি চিকিৎসার উদ্দেশ্য ও প্রমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন।
খরচ ও সময়
উৎস DOCX-এ নির্দিষ্ট চিকিৎসা-খরচ দেওয়া নেই; সেখানে ক্লিনিকের itemised price list যোগ করার জন্য একটি placeholder রয়েছে। তাই এখানে কোনও অনুমানভিত্তিক মূল্য দেওয়া হচ্ছে না।
নথিতে বলা হয়েছে, ওষুধভিত্তিক চিকিৎসায় সাধারণত কয়েক মাস লাগতে পারে। প্রকৃত সময় আপনার চিকিৎসা পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।
চিকিৎসা শুরুর আগে ক্লিনিকের কাছ থেকে খরচের বিস্তারিত তালিকা এবং সম্ভাব্য সময় জেনে নিন।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. অ্যাডিনোমায়োসিস থাকলে কি বাচ্চা হবে না?
না, এমন নয়। গবেষণায় অ্যাডিনোমায়োসিস থাকা নারীদের IVF চক্রেও গর্ভধারণ হয়েছে। তবে কিছু বিশ্লেষণে গর্ভধারণের হার কম এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। আপনার ব্যক্তিগত সম্ভাবনা বয়স, অন্যান্য সমস্যা, স্ক্যানের বিবরণ ও চিকিৎসার ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে।
২. স্ক্যানে কিছু না এলে কি অ্যাডিনোমায়োসিস নেই?
সবসময় নয়। উৎস নথিতে উদ্ধৃত গবেষণায় আলট্রাসাউন্ডের সংবেদনশীলতা প্রায় ৭২ শতাংশ এবং MRI-এর প্রায় ৭৭ শতাংশ ছিল। উপসর্গ থাকলে রিপোর্ট পুনর্মূল্যায়ন বা MRI প্রয়োজন কি না, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
৩. হরমোনের ওষুধ খেলে কি স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে?
উৎস নথিতে উদ্ধৃত নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হরমোন দেওয়ার সুপারিশ নেই। হরমোন মূলত ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হতে পারে। IVF-এর আগে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হরমোন ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে, তবে তা সীমিত।
৪. IVF-এর আগে কি অ্যাডিনোমায়োসিসের চিকিৎসা করা উচিত?
সব ক্ষেত্রে নয়। তাজা ভ্রূণ স্থানান্তরের আগে GnRH-জাতীয় ওষুধ নিয়মিত সুপারিশ করা হয় না। হিমায়িত ভ্রূণ স্থানান্তরের আগে গর্ভধারণের হার বাড়তে পারে—এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে, তবে প্রমাণ দুর্বল। আপনার বয়স, আগের IVF চক্র এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
৫. অ্যাডিনোমায়োসিসে গর্ভপাতের ঝুঁকি কি বেশি?
কিছু গবেষণায় অ্যাডিনোমায়োসিস থাকা নারীদের IVF-পরবর্তী গর্ভধারণে গর্ভপাতের আপেক্ষিক ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। ২০১৪ সালের বিশ্লেষণে আপেক্ষিক ঝুঁকি ছিল ২.১২। তবে গবেষণাগুলোর সংখ্যা ও ফলের মধ্যে পার্থক্য ছিল; তাই এই পরিসংখ্যানকে ব্যক্তিগত ঝুঁকির নির্ভুল হিসাব হিসেবে নেওয়া যাবে না।
৬. জরায়ু অপসারণ কি একমাত্র সমাধান?
না। ওষুধ এবং জরায়ু রেখে অস্ত্রোপচারও কিছু ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে জরায়ু অপসারণের পর গর্ভধারণ সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে অন্য বিকল্প নিয়ে আলোচনা করুন।
সারকথা
অ্যাডিনোমায়োসিস মাসিকের তীব্র ব্যথা ও ভারী রক্তস্রাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। গবেষণায় IVF-এর ক্ষেত্রে গর্ভধারণের হার কিছুটা কম এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে, তবে অ্যাডিনোমায়োসিস থাকলেই গর্ভধারণ অসম্ভব—এমন নয়।
স্বাভাবিক স্ক্যানেও রোগটি থাকতে পারে। ব্যথার চিকিৎসা রয়েছে, কিন্তু গর্ভধারণ বা জীবিত সন্তান জন্মের সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন চিকিৎসার প্রমাণ সীমিত। তাই চিকিৎসার উদ্দেশ্য, প্রমাণের মান এবং আপনার প্রজনন-পরিকল্পনা—সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
Dr. Arnab Kundu-র সঙ্গে পরামর্শ করুন
অ্যাডিনোমায়োসিসের রিপোর্ট, মাসিকের ব্যথা বা IVF-এর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে Dr. Arnab Kundu-র প্রোফাইল দেখুন।
পরামর্শের সময় আপনার আলট্রাসাউন্ড বা MRI রিপোর্ট, আগের চিকিৎসার বিবরণ এবং IVF-এর পূর্ববর্তী চক্রের ফল থাকলে সেগুলো সঙ্গে নিয়ে যান।
Renew Healthcare-এর পরিষেবা সম্পর্কে জানতে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন। IVF চিকিৎসা সম্পর্কে আরও জানতে IVF পরিষেবা পেজ এবং প্রথম IVF ক্লিনিক ভিজিটের গাইড পড়তে পারেন।
সম্পর্কিত বিষয়: মাসিকের ব্যথা কখন স্বাভাবিক নয়, বারবার গর্ভপাতের পরীক্ষা এবং জরায়ুর ভেতরের পলিপ নিয়ে আমাদের সম্পর্কিত ব্লগগুলোও পড়তে পারেন। এই তিনটি নিবন্ধের live URL নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট anchor text-এ লিংক যোগ করুন; অনুমানভিত্তিক URL ব্যবহার করবেন না।
এই নিবন্ধটি সাধারণ শিক্ষামূলক তথ্যের জন্য। এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যোগ্য চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
তথ্যসূত্র
Harada T, Taniguchi F, Guo SW, et al. The Asian Society of Endometriosis and Adenomyosis guidelines for managing adenomyosis. Reproductive Medicine and Biology. 2023;22(1). doi:10.1002/rmb2.12535.
Champaneria R, Abedin P, Daniels J, Balogun M, Khan KS. Ultrasound scan and magnetic resonance imaging for the diagnosis of adenomyosis: systematic review comparing test accuracy. Acta Obstetricia et Gynecologica Scandinavica. 2010;89(11):1374–1384. doi:10.3109/00016349.2010.512061.
Vercellini P, Consonni D, Dridi D, Bracco B, Frattaruolo MP, Somigliana E. Uterine adenomyosis and in vitro fertilization outcome: a systematic review and meta-analysis. Human Reproduction. 2014;29(5):964–977. doi:10.1093/humrep/deu041.
Younes G, Tulandi T. Effects of adenomyosis on in vitro fertilization treatment outcomes: a meta-analysis. Fertility and Sterility. 2017;108(3):483–490. doi:10.1016/j.fertnstert.2017.06.025.
Becker CM, Bokor A, Heikinheimo O, et al. ESHRE guideline: endometriosis. Human Reproduction Open. 2022;2022(2). doi:10.1093/hropen/hoac009.
প্রকাশের আগে যাচাই: উৎস নথি অনুযায়ী, Dr. Arnab Kundu-র clinical sign-off নিতে হবে, চিকিৎসাগত তথ্য ও রেফারেন্স পুনরায় যাচাই করতে হবে এবং একজন বাংলা-ভাষী চিকিৎসকের মাধ্যমে ভাষা ও পরিভাষা পর্যালোচনা করাতে হবে। ২০১৪ সালের বিশ্লেষণের সম্পূর্ণ লেখা যাচাই করা হয়নি বলে তার সংখ্যাগুলো প্রকাশের আগে প্রাথমিক গবেষণাপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ক্লিনিকের মূল্য, ফোন নম্বর, ঠিকানা বা সাফল্যের হার নিশ্চিত তথ্য ছাড়া যোগ করবেন না।

